• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৮ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু

অবশেষে যবিপ্রবিতে ভর্তি হলো নীলফামারীর নিপুন 

সিসি নিউজ ।। অবশেষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) কর্তৃপক্ষের বিশেষ সভার সিদ্ধান্তে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি সম্পন্ন হয়েছে নিপুন বিশ্বাসের। আজ বুধবার দুপুরে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করেছে বলে নিপুন আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন। সেই সাথে সকল গণমাধ্যমের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নীলফামারীর নিপুনকে নিয়ে সংবাদের ঝড় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর অবশেষে জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিপুনকে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) কর্তৃপক্ষ। একটি আসন বাড়িয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. মেহেদী হাসানের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়, মঙ্গলবার বিকেলে ডিনস কমিটির এক জরুরি সভায় শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ভর্তি সংক্রান্ত উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। আলোচনায়, ‘গত ৩০ তারিখে ভর্তির জন্য বিজ্ঞপ্তির মেধাতালিকার একজন শিক্ষার্থী নিপুন বিশ্বাস, মেধাক্রম ১৭, ক্রমিক নম্বর ৭০২৬৯ পরিববহন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সময়ে (সকাল ১০-১১টার মধ্যে) উপস্থিত হতে পারেননি।

এমতাবস্থায়, অনুষদীয় ভর্তি কমিটি ওই শিক্ষার্থীর ক্রমের পরবর্তী ক্রমের (মেধাক্রম ১৯, রোল নম্বর ৭০০৩০) উপস্থিত শিক্ষার্থী বায়েজিদ মল্লিককে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থী (নিপুন বিশ্বাস) বেলা দেড়টায় উপস্থিত হন। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অবহিত করলে তিনি বিষয়টির মানবিক দিক বিবেচনায় শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগে একটি আসন বর্ধিত করে ওই শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানোর জন্য ডিনস কমিটিকে অনুরোধ করেন।

উপাচার্যের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এ কমিটি ওই শিক্ষার্থীকে একটি আসন বাড়িয়ে ভর্তি করার সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির পরবর্তী সভায় অবহিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।

উল্লেখ্য যে, নিপুনের কোনো স্মার্টফোন নেই, যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ঢুকে নোটিশটি দেখতে পারেননি। এমনকি তার মোবাইলে (সাধারণ ফোন) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো কল বা মেসেজও যায়নি। মাঝরাতে তার এক বড় ভাই ফোন করে বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি জানান। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি আশপাশের লোকজন ও নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করে ২৩ হাজার টাকার ব্যবস্থা করেন।

এরপর নির্দিষ্ট সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর জন্য ১৫ হাজার টাকায় একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করেন। কিন্তু যশোর থেকে নীলফামারীর দূরত্ব বেশি এবং রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে দুপুর ১২টা ৮ মিনিট বেজে যায়।

তিনি যখন গাড়িতে ছিলেন তখন এক বড় ভাইকে ফোন করে বলেন, তার ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে দেরি হবে। ক্যাম্পাসের ওই বড় ভাই বিষয়টি ডিনকে জানান। নিপুন যখন ক্যাম্পাসে পৌঁছান তখন জানতে পারেন মেরিট লিস্টে তিনি প্রথমে থাকলেও তৃতীয় সিরিয়ালে থাকা এক শিক্ষার্থীকে ভর্তি নেওয়া হয়েছে। এরপর অনেক অনুনয়-বিনয় করেও ভর্তি হতে পারেননি নিপুন।

নিপুণ বিশ্বাসের বাড়ি নীলফামারীর সদর উপজেলা লক্ষীচাপে। তার পিতা প্রেমানন্দ বিশ্বাস পেশায় একজন নরসুন্দর। দুই ভাইয়ের মধ্যে মেধাবী নিপুণ ছোট বেলা থেকে আর্থিক অনটনের শত বাধা পেরিয়ে নীলফামারীর মশিউর রহমান কলেজ থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েও ভর্তি হতে না পেয়ে সে পরিবারের কাছে না ফিরে হতাশায় ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ